Categories
কোন এক প্রেয়সীকে নিয়ে লিখা

ড্রাফটে রেখে দেয়া মেইলগুলি : ৮

প্রিয় আদিরাফ,
অনেক ভালো আছো জানি। আমি আছি কোন রমম। প্যারার মাঝে আছি। এসব প্যারার কথা আগে তোমাকে বলতাম। তুমি বলতে cool বাবু। সব ঠিক হয়ে যাবে। হ্যা সব ঠিক হবে তো আমিও জানি। তাও প্যারার কথা গুলি বলতাম। মানুষের মস্তিষ্কের দুইটা অংশ থাকে। একটা conscious আর একটা subconscious।  আমি subconscious মাইন্ডকে যা বলতাম তা তোমাকে শেয়ার করতাম। ভালো লাগা,প্যারা লাগা, রাগ লাগা সব। তুমি খুব বিরক্ত হতে। না? ভাবতে আমার জীবনের সাথে জড়ালে তুমিও প্যারা খাবা। হা হা হা। কিন্তু আমি কিন্তু প্যারা খেলেও কখনো হাল ছেড়ে দি না। আমার থিসিস এর সময়ের কথা মনে আছে? কত্তো প্যারা খাইছি। সুপারভাইজার স্যার তো আমাকে কোন হেল্পই করেন নি। উনি উনার প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্থ ছিলেন। আমার অবস্থা দেখে তুমিও স্যার এর উপর বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলে। আমি একা একা কত্তো কিছু করলাম। অন্য ডিপার্টমেন্টের স্যার ম্যামদের সাথেও কথা ও বললাম। উনারা হেল্প ও করবেন বলেছিলেন।  যখন দেখলাম আমার থিসিস খুব হালকা হয়ে যাবে উনাদের উপর ডিপেন্ড করে থাকলে তখন নিজে নিজে  GIS শিখে ফেললাম। GIS শিখতে গিয়েও কত্তো প্যারা খাইছি। রাতদিন pc নিয়ে বসে থাকা। অনিশ্চয়তা, হেল্পলেস অবস্থা।  কিন্তু আমি হাল ছাড়ি নি। শেষমেশ,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টে গেলাম। তারিখ টা মনে আছে? ১২ই ফেব্রুয়ারী। তোমার সাথে ১১ই ফেব্রুয়ারী হঠাৎ ষোলশহর দেখা হলো। তুমি ওইদিনই আমার উপর ক্রাশ খেয়েছিলে। যদিও বা এর আগেরদিন রাত ৩ টা পর্যন্ত ল্যাবে কাজ করে আমার বিধ্বস্ত অবস্থা ছিল। আচ্ছা ওসব কাহিনি নাই বা বলি। তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিয়ে আসার পর ওই স্যার এর পাত্তা নায়। ২৭ ফেব্রুয়ারী কিছু ডাটা দিবেন বলেছেন। কয়েকবার কল করাতে। ২৭ ফেব্রুয়ারী দিয়েছিলেন ডাটা। ও আল্লাহ!!! মনে আছে সেই ডাটার কথা? শুধু কতগুলো গ্রাম পজিটিভ আর নেগেটিভ এর রেজাল্ট 🤦‍♂️🤦‍♂️🤦‍♂️। এ পরীক্ষা গুলি আমি ল্যাব এ ও করতে পারতাম। যাইহোক, কি আর করা। এগুলিই থিসিসে এড করা লাগবে। মার্চের ২ তারিখ সাবমিশন। আর আমি ডাটা পেলাম ২৭ ফেব্রুয়ারী রাত্রে। তাও খুবই সিম্পল ডাটা। ওই ডাটাই এড করলাম থিসিসে। ভাগ্যিস আমি GIS এ শিফট করেছিলাম। না হয় আমি থিসিসে মারা খাইতাম ভালো মতোই। তো এখনকার প্যারা এর কথা শুনবে? আচ্ছা বলছি। আমি তো পিউর কালচার গুলো দিয়ে আসছি। ভাবছিলাম উনি সবকিছু করে ফেলবেন এবং আমি পাব্লিকেশন এর জন্যে লিখবো। কিন্তু কিসের কি। আমিতো মাঝখানে তোমাকে সময় দিতে গিয়ে বিজি হয়ে গিয়েছিলাম (আমার লাইফের বড় ভুল। নিজের ক্যারিয়ার এর চাইতেও তোমাকে বেশি প্রায়োরিটি দেয়া)। এরপর ৪৪ BCS প্রিলি। ৪৩ রিটেন। তোমাকে ও ল্যাবে অনেক হেল্প করেছি।( লাইফের আরো একটা বড় ভুল। নিজেকে খুব বেশি এভেইলেবল করে ফেলেছিলাম তোমার কাছে। ডাকলেই ছুটে যেথাম। এটা একদমই উচিত হয়নি।)  সব মিলিয়ে বিজি লাইফ। খোজ  রাখা হয়নি ব্যাকটেরিয়া এর। স্যারেরাও দায়িত্ব নিয়ে কিছু করেনি। জুলাই মাসে তো তোমার সাথে বিচ্ছেদ হলো। এরপর আমি আর ইউনিভার্সিটি যায় নি। ক্যাম্পাস গেলেই তোমার স্মৃতি আমাকে আঁকড়ে ধরে। খুব কষ্ট হয়। গেলাম সেই ১৩ই সেপ্টেম্বর।  আকতার স্যার কথা শুনাইলো। স্বাভাবিক।  আমি অন্যায় করেছি তাই কথা শুনিয়েছেন। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্যারা হলো যখন শুনলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এর কাছে রেখে আসা পিউর কালচার গুলি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাও ও এতটা হতাশ লাগেনি। ভাবছি আমার কাছে তো আছে কিছু স্যাম্পল।  ওগুলি দিয়ে কাজ চালানো যায় কিনা দেখি। আজকে এসে ল্যাব এর ফ্রীজ খুললাম ২ ঘন্টা ধরে চেষ্টা করার পর।(বরফ জমে ডেস্ক খুলছিলো না)। অবশেষে খোলার পর যা দেখলাম তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। দেখি সব পিউর কালচার নষ্ট।  অনেক গুলির ভিতর vapor ছিল। তাও জমে বরফ। কি এক অবস্থা। আকতার   স্যার কে দেখাইলাম। স্যার ও হতাশ খানিকটা।  কিন্তু আমিতো ছেড়ে দেয়ার মত ছেলে না। ইম্পসিবল বলে কোনো ওয়ার্ড আমার অভিধানে নেই। আমি আবার কালচার করবো আগামীকাল। ৭.৫০ এর ট্রেনেই গিয়ে সকাল সকাল শুরু করে দিবো। দেখা যাক কি হয়। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছুই হবে। আমি পাব্লিকেশন করেই ছাড়বো। তোমার পাব্লিকেশন আছে। আমি পিছিয়ে থাকতে চায় না তোমার চেয়ে। ইনশাআল্লাহ আমার সব সপ্ন আমি পূরণ করবো।
সুখে তো আছো জানি। দোয়া করি আরো সুখী হও। আমি প্রতিদিন তোমার জন্যে দোয়া করি। আল্লাহ তোমার ভালো করুন। আমিন।
ইতি,
ইডিয়ট
২৬-০৯-২০২২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *