Categories
কোন এক প্রেয়সীকে নিয়ে লিখা

ড্রাফটে রেখে দেয়া মেইলগুলি: ৬

প্রিয় মোটু,
আবার মেইল দিচ্ছি। আজকে মনে হয় অতিরিক্ত মিস করছি। একদিন এর ভিতর দুইটা মেইল দিচ্ছি। আসলে ক্যাম্পাসে তো। প্রতিটা মুহুর্তে তোমাকে মিস করছি। সেই প্লাটফর্ম,  সেই জিরো পয়েন্ট,  সেই atm বুথ। সব আগের মতোই আছে। শুধু তুমি নেই আমার লাইফে। সবচেয়ে বড় কষ্ট কি জানো?  আমি তোমাকে যখন তখন মেইল বা টেক্সট করতে পারিনা। আগে কোন কিছু না ভেবেই কত কথা বলে ফেলতাম। এখন কিছুই বলা হয়ে উঠে না। এসব কথা কাউকে বলাও যায় না। দম বন্ধ হয়ে মরে যাওয়ার মতো অবস্থা। মহাদেব সাহার কবিতার মতো আমার অবস্থা এখন। মহাদেব সাহা যেন আমারই জন্যে কবিতা টি লিখেছেন:
তোমাকে ভুলতে চেয়ে আরো বেশি
ভালোবেসে ফেলি
তোমাকে ছাড়াতে গিয়ে আরো
বেশি গভীরে জড়াই,
যতোই তোমাকে ছেড়ে যেতে চাই
দূরে
ততোই তোমার হাতে বন্দি হয়ে পড়ি,
তোমাকে এড়াতে গেলে এভাবেই
আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে যাই।
কি করতাম বলো। তুমিতো আমার সাথে নিচকই সময় পাস করেছো। কিন্তু আমিতো তা করিনি। কখনো চিন্তাতেই আসেনি এসব করার কথা। ২৬ ফেব্রুয়ারী ১০.৩০ টার দিকে তুমি cng তে আমার কাধে মাথা রেখে বলেছিলে, “ইডিয়ট (আমার নাম ইডিয়টই রেখে দিলাম, শেষের যেদিন কথা হয়েছিলো সেদিন তুমি আমাকে ইডিয়ট বলেছিলে),  প্লিজ ডোন্ট লিভ মি।” আমি সেদিনই তোমাকে সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছিলাম।  আমি উত্তরে কিছু না বললেও, মনে মনে ঠিকই বলেছিলাম, এ মেয়েকে আমি জীবনেও কষ্ট দিবো না। আসলেই আমি তোমাকে কষ্ট দি নি। আমি একটি বারের  জন্যেও তোমাকে বকা দি নি। আচ্ছা যাইহোক, স্মৃতিতে কাতর হয়ে কি সব লিখছি। আসলে অনেক দিন পর ১ নং গেইট আসছি। আকতার স্যার এর জন্যে ফুল নিতে। আমি তোমাকে যে ফুল গুলো দিতাম এগুলির চেয়েও এটা কম সুন্দর। কি জানি নাকি আমার মনে হচ্ছে। হইতোবা তোমাকে দিতাম বলেই ফুল গুলির সৌন্দর্য অনেক গুন বেড়ে যেত। ১ নং গেইটে এর আগে কবে আসছি জানো? সেই ১ জুলাই। যে দিন আমাদের শেষ দেখা হয়েছিল। আচ্ছা তুমিতো সব জানতে। এত্তো অভিনয় না করলেও পারতে। ১ জুলাই শেষের মুহুর্ত গুলিও কত্তো সুন্দর ছিল। এরকম সুন্দর করে অভিনয় কিভাবে করো তুমি? আমাকে শিখাইতা একটু।
সেই ৬ মার্চ এর কথা মনে আছে? আমরা কত্তো ভালো সময় কাটিয়েছিলাম ১ নং গেইটে। তুমি আমাকে একটা সাকুলেন্ট গিফট করেছিলে। আমি কত্তো যে খুশি হয়েছিলাম। আমি একটু কেমন জানি, গাধা টাইপ। খুশিগুলি দেখাতে জানিনা। হুহ।সেইদিন তোমাকে ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করছিলো না। টিউশন পর্যন্ত মিস দিছিলাম। তুমি তোমার মামা, ফারিহা এদের সাথে ফোনে কথা বলে সময় নষ্ট করছিলে। আমি ঝগড়া না করে। সরাসরিই বলে দিছিলাম। আমার এ ব্যাপারটা ভালো লাগেনি। এরকম আমরা যখন দেখা করবো তখন মোবাইল ইউস করবো না। তুমিও সরি বলে মেনে নিয়েছিলে। এরপর আমরা কখনোই দেখা হওয়ার সময় মোবাইল ইউস করতাম না। আমরা কত্তো ভালো ছিলাম।
সেই ১ নং গেইটের যাত্রী ছাউনির নীচে বসে আছি আমি এখন। সব কিছুই আছে। শুধু তুমি নেই। খুব মিস করছি তোমাই।
ভালো থেকো ভাইয়া কে নিয়ে।
ইতি,
ইডিয়ট
১৮/০৯/২০২২
সকাল ১০.১০
পুনশ্চ : আকতার স্যার এর সাথে দেখা করলাম। ফুল দিলাম। মনে হলো খুশি হয়েছে।স্যারকে বললাম স্যার আমার উপর রাগ করে থাকিয়েন না প্লিজ। আপনি আমাকে অনেক কিছুই শিখিয়েছেন। আপনি রাগ করে থাকলে আমি বড় কিছু করতে পারবোনা কোন দিন। উনি বললেন তুমি আমার স্টুডেন্ট। তোমার সাথে রাগব করবো কেন। আমি বললাম। তাও স্যার। আমি সরি। প্যারা হলো…. আগামীকাল আবার আসতে হবে। সোহাগ স্যার এর সাথে দেখা করতে হবে। ২১৭ পেয়ার পেট্রিডিশ আমার কাছে। জমা দেয়া হয়নি। সার্টিফিকেট ও তুলতে পারবোনা। ঢাকা ইউনিভার্সিটি তে যে স্যাম্পল পাঠিয়েছিলাম তার খোজ খবর নায়। ওখানেও তো আমার অনেক পেট্রিডিশ জমা আছে। ঝামেলা তে পড়তে যাচ্ছি মনে হচ্ছে। কিন্তু আমি ঝামেলা কে ভয় পায় না। ইনশাআল্লাহ পজিটিভ কিছুই হবে। ব্রেকাপের আগে এরকম প্যারার কথা গুলি তোমাকে বলতাম।তোমার মনে হয় বিরক্ত লাগতো। যাক, ব্রেকাপ করে তুমি শান্তি পাচ্ছো অন্তত। আমার এসব প্যারার কথা শুনতে হচ্ছে না। ভাইয়া তো প্যারা দিচ্ছেনা আর। সেটেলড।এস্টাব্লিশ। টাকা পয়শার ও অভাব নেই। তুমি সুখেই থাকবে। এ ভেবে ভালো লাগছে যে আমার প্রিয় মানুষ টা কে আর এসব প্যারার কথা বলতে হচ্ছে না আমার। থাকে সুখে রাখতে পারছি। তাকে শান্তি দিতে পারছি। ব্রেকাপের পরো এসব কেন বলছি? বলবো না। শুধু লিখে রাখছি। মেইল সেন্ড করবোনা। ড্রাফটেই থেকে যাবে। কি করবো বলো। আমার যে কেউ নাই বলার মতো।  তুমিই যে আমার পৃথিবী ছিলা। সেই পৃথিবীটাই আজকের দিনে নাই হয়ে গেলো।
আই এম মিসিং ইউ বেডলি।
১৮/০৯/২০২২
সকাল ১১.৫৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *