প্রিয় মোটু,
কেমন আছো? রোজ রোজ কেমন আছো জিজ্ঞেস করতে ভালো লাগেনা আমার এখন। তুমি তো দিব্যি ভালো, আছো সুখে আছো। আমিও প্রতিদিন তোমার জন্যে দোয়া করি। আল্লাহ তোমাকে ভালো রাখুক। ভাইয়া খুব কেয়ার করে না? আমিতো তোমাকে কথাই বলতে দিতাম না। সারাক্ষণ প্যান প্যান করতাম। আসলে তুমিই কম বলতে বিদায় আমি বেশি বলতাম। হ্যা আমি বাচাল। কিন্তু এটা শুধু তোমারই জন্যে।
হ্যা যে জন্যে মেইল লিখছি। আজকে ফারিয়া(আমার কাজিন) কল দিলো। আগামীকাল ওর এস. এস. সি এক্সাম। তাই দোয়া চাইতে। এই যে ফোন করে করে দোয়া চাওয়ার ব্যাপারটা আমাদের ফ্যামিলি তে প্রচলিত। অন্য কোথাও আছে কিনা জানিনা। আমার নিজের ও সবাইকে কল দিয়ে দিয়ে দোয়া চাইতে হয় 🤦♂️🤦♂️🤦♂️। নরমাল একটা এক্সাম হলেও কল দিতে হয়। আল্লাহর রহমতে আত্তীয় স্বজন ও কম না আমাদের 😀😀😀। আমার দাদার ৫ ছেলে, ৫ মেয়ে। আমার নানার ৪ ছেলে, ৫ মেয়ে। হা হা হা। ধ্বংস। কল দিতে দিতে শেষ। আম্মু কল দিতে বলে। কি করতাম? 🤦♂️🤦♂️🤦♂️ আবার কল ন করলেও মনের ভিতর কেমন জানি অপরাধবোধ কাজ করে। তাই কল করি। বিরক্ত লাগলেও করি। আবার রেজাল্ট দিলেও, রেজাল্ট পজিটিভ হলে সবাইকে কল দিয়ে দিয়ে বলতে হয়। হা হা হা। যেমন ভালো বন্ডিং , তেমনি প্যারাও আছে। আচ্ছা তোমরা দাও এরকম কল আত্তীয় স্বজন সবাইকে। ফারিহা দিছে কল? ও কেমন আছে? ওর ও তো এক্সাম। প্রিপারেশন কেমন ওর? আশা করছি অনেক ভালো হবে এক্সাম। আল্লাহ ওর আশা পূরণ করুন। আমার গিফট করা কলম আর পেন্সিল গুলি আছে? নাকি শেষ? সেই ২৮ শে মার্চ ওর জন্মদিন উপলক্ষে দিয়েছিলাম। ১২ টা পেন্সিল, ১২ টা কলম 😀😀😀। তখন, ও বলেছিল এত্তো গুলি কলম পেন্সিল কেন এনেছিস আপু? (যেহেতু তুমি আমার কথা বলো নি। তুমি বলেছিলে তুমিই দিয়েছ গিফট 😔😔😔) তুই কি পাগল হয়েছিস? 😀😀😀 হা হা হা। দেখো। কি হচ্ছে এখন। আমি কি ফকির দরবেশ টাইপ কিছু হয়ে যাচ্ছি দিন দিন? কিছু একটা বললে বা করলে সেটা ঠিক ঠিক হয় যায়। যেমন ৫ জুলাই তুমি যখন রামগড় যাচ্ছিলে, আমি মন খারাপ করে বলেছিলাম আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তোমাকে হারিয়ে ফেলছি। আর দেখা হবে না। তুমি বলেছিলে মাত্র কয়েকটা দিন। এসেই দেখা করবো। দেখেছো? আমার কথাই ঠিক হয়েছে। আর দেখা হলো না। আমি তোমাকে হারিয়েই ফেলেছি সারাজীবনের জন্য। তুমিতো এখন চাও, আমি যেন জীবনে কোনোদিন আমার চেহেরা তোমাকে না দেখায়। তুমি দেখতে চাও না। হা হা হা। হুম। আমি সবসময় তোমার কথা মেনে চলবো। আমি চেষ্টা করবো তুমি যেন আমার চেহেরা না দেখ এ জীবনে আর। কিন্তু জানিনা বিধাতা কি চান। উনার ইচ্ছার উপর আমার হাত নেই।
ফারিয়ার জন্যেও এরকম কলম পেন্সিল কিং এক্সাম এর ইকিউপম্যান্ট পাঠানো যেত। যেহেতু ওর জন্মদিন ১১ই সেপ্টেম্বর ছিল। কিনে তুমি গিফট দিয়েছো বলে ওর হাতে দিতাম। ও অনেক খুশি হতো। মনে মনে ভাবতো। আহা আপু টা কত্তো কেয়ারিং। তুমি ব্যাপারটা কিভাবে নিতে জানিনা। কিন্তু তোমাকে কেউ ভালো বললে আমার প্রাউড ফিল হতো। আমি সবসময় তোমার প্রশংসা করতাম ওদের সামনে।
আচ্ছা। বাদ দাও এসব কথা। সবকিছু ঠিক থাকলে একদিন তোমাকে নিয়ে ফারিহাদের সেন্টার এ যেতাম। ওর এক্সাম শেষে সবাই মিলে আইসক্রিম খেতাম। অবশ্য তুমি হইতোবা আমাকে পরিচয় করাই দিতে চাইতে না। হইতোবা এ প্ল্যান এক্সিকিউট করতে দিতে না।
আচ্ছা, ভাইয়া কি ফারিহা দেখতে পারেন? ওর এক্সাম উপলক্ষে শুভকামনা জানিয়েছেন? ওর জন্যে কি কিছু পাঠাতে চেয়েছেন? ফারিহা ও মে বি ভাইয়াকে অনেক পছন্দ করবেন। একদিন ভাইয়া কে নিয়ে যাইও ফারিহার সেন্টার এ। ফারিহা কে সারপ্রাইজ দিও। ভাইয়া কি আমার মতো যখন তখন সারপ্রাইজ দিতে ভালোবাসেন? আমার চেয়েও বেশি সারপ্রাইজ দেন মনে হয় তোমাকে।
আচ্ছা, কি লিখবো আর। তুমি ওর এক্সাম এর টাইমে অন্তত বাসায় যেও না। ওর পড়ার ক্ষতি হতে পারে।ফারিহার জন্যে শুভকামনা। আমার কাজিন ফারিয়ার জন্যে ও। সবার মনের আশা পূরণ হোক। সব নবদম্পতি কিংবা বাগদত্তা ভালো থাকুক।
ইতি,
সেই ইডিয়ট ছেলেটি
১৪-০৯-২০২২