প্রিয় মোটু,
কেমন আছো তুমি? নিশ্চয় অনেক ভালো। ভাইয়া কে নিয়ে তো ভালোই আছো। না? ল্যাব এ যাও? তোমার এক্সপেরিমেন্ট সব শেষ? আফসোস তোমার থিসিস এ হেল্প করতে পারিনি। টেইল ইমার্শন এক্সপেরিমেন্ট শেষ? মনে আছে গতবার ওই এক্সপেরিমেন্ট এ আমি তোমাকে হেল্প করেছিলাম? যদিও বা মামুলি একটা ব্যাপার তোমার জন্যে তাও ও আমার অনেক ভালো লেগেছিল। তোমার থিসিস লিখাই হেল্প করতে পারিনি। বানিয়ে দিতে পারিনি টেবল অব কন্টেন্ট, টেবল অব ফিগার আর টেবল অফ লিস্ট। কিংবা পেজ ব্রেক করে রোমান হরফে পেইজ দেয়া। কত্তো কিছু করে দেয়ার কথা। তারপর তোমার সব এক্সপেরিমেন্ট এর ছবি ফটোসপ এ ইডিট করে দেয়া। হুউহ। থাক গিয়ে। তোমাকে হেল্প করার জন্যে তো ভাইয়া আছে। ভাইয়া নিশ্চয়ই অনেক কিছু জানেন। উনি নিশ্চয় হেল্প করবেন। তোমার হাসিমুখ দেখতে যে আমার অনেক বেশি ভালো লাগতো। হায়, সেই চেনা মুখ টা কত্তো দিন দেখিনা, তার চোখে চেয়ে সপ্ন কত্তো দিন আকা হয় না।
জানি না তুমি কেমন আছো। আমি চাইতাম তোমাকে ভালো রাখতে। তোমাকে খুশিতে রাখতে। তোমাকে সুখে রাখতেই আমি তোমার পাশে থাকতে চেয়েছিলাম।
জানো তুমি? আমি ঢাকায় এলাম। তোমার পূরণ করে দেয়া ফরম।(৪ জুলাই পূরণ করে দিয়েছিলে)। গতবার যখন ঢাকায় এসেছিলাম ৫ ই জুন, ২০২২। তখন তুমি আমার হাত পৃথিবীতে ছিলে। না ভুল বললাম। তুমি এখনো আমার পৃথিবীতে আছো। এখনো আমি তোমাকে ভালোবাসি।
হইতোবা তখন আমি তোমার প্রায়োরিটি লিস্টে তলানিতে হলেও ছিলাম। তুমি বলেছিলে সেল্ফি দিতে। আমি দিলাম। তুমি বললে, মাশাল্লাহ।।। প্লিজ, একটা কালো টিপ দিয়ে দাও যাতে নজর না লাগে। আমি হাসলাম অনেক। আসলে কিভাবে মানুষকে নিমিষেই পটিয়ে ফেলা যায় তা তোমার ভালোই জানা আছে।
আমিও তোমার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম। নিজের পার্সোনালিটি বলে যে কিছু একটা থাকা দরকার তা আমি ভুলে গেছিলাম। তোমাকে প্রায়োরিটি লিস্টের প্রথমেই রাখতাম। না না….. ভুল বলেছি, আসলে তুমি আর আমার মাঝে কোন পার্থক্য ছিল না। আমার মন টা আমি তোমাকেই দিয়ে দিয়েছিলাম। তাইতো, সব রাগ, ব্যাথা, দুঃখ, আনন্দ, প্যারা তোমাকে এসে বলতাম। আসলে বুজতাম না আমার ভালো লাগার মানুষটির এসব বিরক্ত লাগে। জানলে এত্তো কিছু করতাম না। নিজের পার্সোনালিটি মেইনটেইন করতাম।
আমি ভাবতাম তুমিতো আমারই। তোমার সাথে কি পার্সোনালিটি মেইনটেইন করবো। কিন্তু এ ধারণা যে কত্তো বড় ভুল ছিল তা তুমি আমাকে শেষের দিংগুলিতে হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলে। আমি নতুন দা কে নিয়ে এত্তো কিছু বলতাম না সিরিয়াসলি। এসব ফান করেই বলছি। তুমি এগুলি মে বি আমার নিচু মানসিকতা ভাবছো।
যায়হোক, এবার ঢাকা এসেছি। কেউ আমার কাছে সেলফি চায় নি, জিজ্ঞেস করেনি দুপুরে খেয়েছি কিনা।
হা হা হা। মজা না। সময় কত্তো দ্রুত পাল্টে দেয় সবকিছু।
আচ্ছা। ভাইয়া কি ঢাকায় থাকেন? উনার থেকে তো অনেক অনেক মজার মজার গল্প শুনা হয় প্রতিদিন। আমার এসব গল্প তোমার স্মৃতির মনিকোঠায় নাই বা থাকুক। ভাইয়া কে নিয়ে সুখে থাকো।
ইতি,
বোকা ছেলেটি
৯/৯/২০২২